• ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রবিবার ০৭ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SI

রাজ্য

বাংলায় আসছে বুলেট ট্রেন! দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ছয় ঘণ্টায়, বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসের মধ্যেই রেল প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি এসেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে পাশে নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নানা কারণে আটকে ছিল। এখন সেই বাধা কাটিয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আগের সরকার রেলের বহু উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেনি। এমনকি কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নানা বাধা তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।বাংলার জন্য রেলের বরাদ্দ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হত। বর্তমানে সেই অঙ্ক বেড়ে চোদ্দ হাজার দুইশো পাঁচ কোটিতে পৌঁছেছে। জমি অধিগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংক্রান্ত সমস্যাগুলিও ধীরে ধীরে মিটছে বলে জানান তিনি।রেলমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে একশো দুইটি অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দশটি স্টেশনের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে নয়টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং তেরোটি অমৃত ভারত ট্রেন চলাচল করছে বলেও তিনি জানান।সবচেয়ে বড় ঘোষণা আসে বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে। রেলমন্ত্রী বলেন, দিল্লি থেকে বারাণসী, পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ছয় ঘণ্টায় পৌঁছনো সম্ভব হবে।কলকাতা মেট্রোর উন্নয়নের জন্যও বড় পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শহরের মেট্রো পরিষেবায় ষাটটি নতুন প্রজন্মের ট্রেন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব থেকে পশ্চিম ভারতে পণ্য পরিবহণের জন্য একটি নতুন ফ্রেট করিডর চালু হবে। এই করিডর ডানকুনি থেকে শুরু হয়ে সুরাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।রেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে রেলপথের শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলার রেল পরিকাঠামো আরও আধুনিক ও উন্নত হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

জুন ০৬, ২০২৬
রাজ্য

সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিধানসভার তথাকথিত সই জাল কাণ্ড। এই ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি চাপে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের মুখে পড়ে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে সিআইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির অনুমতি দিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে পারে।সমস্ত বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চিঠিটি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পর তা যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।তদন্তে উঠে আসে, তালিকাভুক্ত ৭০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের জায়গায় শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরে নাম লেখা রয়েছে। আরও কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।আরও পড়ুনঃ মূল উপড়ে তৃণ ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রতঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর গত শনিবার সিআইডি-র একটি বিশেষ দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট দিনে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে অভিষেক তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপরই তিনি আইনি পথে এগিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।এই মামলার রাজনৈতিক দিকটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই প্রথম এই জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ তুলে বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বিতর্ক নয়; বরং এটি রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে তদন্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।এখন সকলের নজর আগামী শুক্রবারের হাইকোর্ট শুনানির দিকে। আদালত সিআইডি-র তদন্তে হস্তক্ষেপ করে কি না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পান কি না, এবং এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায়তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজনীতি

অনুব্রতের দুর্গে অসন্তোষের আগুন! অজয়ের পাড়ের থেকেও দ্রুত গতিতে ভাঙছে তৃণমূল!

বীরভূম জেলা তৃণমূলে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি। একের পর এক নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা দলীয় অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের পর এবার জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কোর কমিটির সদস্যপদই নয়, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত আশিসবাবু কখনও প্রকাশ্যে দলবিরোধী অবস্থান নেননি। তাই তাঁর এই পদক্ষেপকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।প্রাক্তন বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি দল ছাড়ছেন না। বরং তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। তবে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ কর্মীর ভূমিকায় ফিরে যেতে আগ্রহী তিনি।উল্লেখযোগ্যভাবে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, অভিজিৎ সিংহ যে কারণ দেখিয়ে কোর কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গেই একমত। কয়েকদিন আগেই অভিজিৎ সিংহ অভিযোগ করেছিলেন, বীরভূম জেলা কোর কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং সংগঠনের কাজে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সেই অভিযোগ ঘিরে তখনই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এরপর কোর কমিটির আর এক সদস্য কাজল শেখও প্রকাশ্যে কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সেই বিতর্ক থামার আগেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূম দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জেলাতেই যদি কোর কমিটির সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাহলে তা জেলা সংগঠনের ভিতরে গভীর সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্তরে তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগ ও সাংগঠনিক অসন্তোষের খবর সামনে আসার আবহে বীরভূমের ঘটনাপ্রবাহকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম রাজনীতির এক পরিচিত নাম। বামফ্রন্টের শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ২০০১ সালে রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর টানা প্রায় পঁচিশ বছর ওই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় দেখা গিয়েছিল।এদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের ঘটনাকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে বিজেপি। দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, এটা কেবল শুরু। যাঁরা এতদিন চুপ ছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।সব মিলিয়ে, অভিজিৎ সিংহ, কাজল শেখ এবং এবার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বীরভূম জেলা তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের স্রোত ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এখন রাজ্য নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

সই জাল কাণ্ডে নতুন মোড়! ফের স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের, বাড়ল জল্পনা

সই জালিয়াতি বিতর্কের মধ্যেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে ফের চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানিয়েছেন। স্পিকারকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার চিঠি দিলেন অভিষেক।এর আগে প্রথম চিঠি পাওয়ার পর স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরাসরি চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন করা যায় না। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দলের পরিষদীয় বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে হয়। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ নথি বিধানসভায় জমা দিতে হয়।মঙ্গলবার পাঠানো দ্বিতীয় চিঠিতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপ-বিরোধী দলনেতা করার দাবিও তুলেছেন।এদিকে সই জালিয়াতি বিতর্ক ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই ঘটনায় সরব হওয়ার পর ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় পঞ্চাশ জন বিধায়ককে ঘিরে দলীয় অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে তদন্তও এগোচ্ছে দ্রুত। সই জালিয়াতি মামলায় তিন তৃণমূল বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিআইডি। বাহারুল ইসলাম, সুব্রত রায় এবং অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষা করতে চান তদন্তকারীরা। আদালতের নির্দেশে তাঁদের বিচারকের সামনে উপস্থিত হয়ে নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের লেখা জমা দিতে হতে পারে। পরে সিআইডির হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞরা সেই নমুনার সঙ্গে বিতর্কিত স্বাক্ষরের মিল খতিয়ে দেখবেন। ফলে সই জালিয়াতি মামলার তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

সিআইডির জেরায় ফাঁস নতুন তথ্য? তিন বিধায়কের স্বীকারোক্তির দাবি শুভেন্দুর

বিধানসভার একটি রেজোলিউশনকে কেন্দ্র করে সই সংক্রান্ত বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়ে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়।শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত যে রেজোলিউশন বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই দুই বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রেজোলিউশনে থাকা কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি স্পিকারের নির্দেশে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তদন্ত চলাকালীন তিন জন বিধায়ক জানিয়েছেন যে রেজোলিউশনে থাকা সই তাঁদের নয়। তিনি দাবি করেন, ওই তিন জন হলেন বাহরুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়। তাঁদের মধ্যে একজন নাকি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি সেদিন কলকাতায়ই ছিলেন না।সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, তদন্তে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, যাঁরা সই নিজেদের নয় বলে জানিয়েছেন, তাঁদের কোনও ব্যক্তিগত লাভ নেই। তাই তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে।এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগকারী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে সই সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘গল্প নয়, সবই সত্যি!’ — আদালতে ইডির বিস্ফোরক দাবি, দুর্নীতি ও জমি-চক্রে শান্তনুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস-কে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখলচক্র, পুলিশি প্রভাব খাটানো এবং অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাঁতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এনে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, ঘটনাপ্রবাহ শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও তদন্তে উঠে আসা প্রতিটি তথ্যই প্রমাণসাপেক্ষ এবং চার্জশিট পেশের সময় তার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।শুক্রবার বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় শান্তনুকে। সওয়াল-জবাবের শেষে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার জমি দখল এবং বেআইনি সম্পত্তি কারবারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কুখ্যাত সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে শান্তনুর গভীর যোগাযোগ ছিল। শুধু যোগাযোগই নয়, পুরো চক্র পরিচালনায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলেই দাবি ইডির।কী ভাবে চলত জমি দখলের কারবার?আদালতে ইডি জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট জমি চিহ্নিত করার পর প্রথমে মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা শুরু হত। এরপর পুলিশি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মালিককে চাপে ফেলা হত। যদি মালিক জমি কম দামে বিক্রি করতে রাজি না হতেন, তবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কিংবা দুষ্কৃতীদের দিয়ে ভয় দেখানোর মতো কৌশল নেওয়া হত।ইডির বক্তব্য, এই চক্রে পুলিশের ক্ষমতা এবং অপরাধী জগতদুই দিককেই ব্যবহার করা হত। জমি মালিকদের ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং শেষে জমি হাতিয়ে নেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সোনা পাপ্পু। আর প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ শান্তনুর বিরুদ্ধে।পুলিশ বদলি থেকে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তৃত অভিযোগের তালিকাতদন্তকারী সংস্থা আদালতে দাবি করেছে, শান্তনুর প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানায় অফিসার বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর মতামত কার্যকর হত। বিশেষত কালীঘাট ও হেয়ার স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তিনি প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।ইডির আরও অভিযোগ# স্ত্রী ও পুত্রের নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন শান্তনু# রাজ্যের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁর পরিবার# ওই ব্যবসায় পুলিশের আরও কিছু কর্তার অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে# কান্দিতে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে# একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে# মোবাইল চ্যাটে প্রতিদিন পরিকল্পনার প্রমাণ মিলেছে# তদন্ত চলাকালীন ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য গোপন এবং অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে# ইডির দাবি, জয় কামদারের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এই যোগসাজশের প্রমাণ বহন করছে।সিন্ডিকেট না দিলে এক জন মেথরও কাজ করতে পারতেন নাসবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন নির্মাণ প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হত। ইডির ভাষায়, এই অর্থ না দিলে এলাকায় এক জন মেথরও কাজ শুরু করতে পারতেন না।তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগও ব্যবহার করা হত। উদ্ধার হওয়া নথিতে আগের সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।শান্তনুর পাল্টা দাবি আমি উত্তরাধিকারসূত্রে ধনীসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তনু। আদালতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।তাঁর বক্তব্যজয় কামদার আমাকে টাকা দেয়নি, বরং আমি ওকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। পরে সেই ফ্ল্যাট কেনা হয়নি।তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিনের সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী। জয় কামদারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল পারিবারিক সূত্রে। স্ত্রী ও ছেলেকে দেওয়া উপহারকে দুর্নীতি বলে দেখানো হচ্ছে, অথচ সেগুলি নিছক সৌজন্য বিনিময়।সোনা পাপ্পুকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকি ইডির দাবি করা বিপুল মূল্যের উপহার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ওগুলোর মোট দাম ৬৫ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে, এক কোটি নয়।আমার ছেলেকেও টানা হচ্ছেশান্তনুর অভিযোগ, ইডি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অন্যায় ভাবে চাপে ফেলছে।তিনি আদালতে বলেনঃসমন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইডিকেও জানিয়েছিলাম কখন হাজির হব। তবুও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এখন আমার মেধাবী ছেলেকেও তদন্তে টানা হচ্ছে।এই মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কলকাতা পুলিশের অন্দরের অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশাসনিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অপরাধচক্র সব মিলিয়ে এই মামলার জাল কত দূর বিস্তৃত, সেটাই এখন দেখার।

মে ১৬, ২০২৬
কলকাতা

ম্যারাথন জেরার পর ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস, ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় বড় পদক্ষেপ

কলকাতা: দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করল ইডি। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার টানা জেরার শেষে বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই পদক্ষেপ করে। বহুবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও এতদিন হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ইডি দফতরে পৌঁছন তিনি। এরপরই শুরু হয় দফায় দফায় জেরা।ইডি সূত্রের দাবি, জেরার শুরুতে কিছুটা সহযোগিতা করলেও পরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান শান্তনু। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বেশ কিছু নথি এবং ডিজিটাল তথ্য সামনে রাখা হলেও তিনি তা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবি করেন এবং তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় ইডি।জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পু তোলাবাজি ও প্রতারণা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও এনআরআই কোটায় মেডিক্যাল ভর্তি দুর্নীতি এবং বালি পাচার এই দুই মামলাতেও তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল।তদন্তে উঠে এসেছে বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের নাম। ইডির অভিযানে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি ও নথিতে শান্তনু সিন্হার নাম মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেনামে একাধিক সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ইডি।ব্যাঙ্কশাল আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে ইডির দাবি, কলকাতা শহরে একটি প্রভাবশালী জমি দখল ও তোলাবাজির সিন্ডিকেট চালানো হত, যেখানে জয় এস কামদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল শান্তনু সিন্হার। অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়ো এফআইআর দায়ের করে থানায় ডেকে চাপ সৃষ্টি করা হত, এরপর জমি দখলের পথ প্রশস্ত করা হতো। এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনি আর্থিক লেনদেনও হয়েছে বলে অভিযোগ।তদন্তকারীদের হাতে আসা জয় এস কামদারের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে একাধিক এফআইআর নম্বরের উল্লেখ মিলেছে। সেই তথ্য থেকেই ভুয়ো মামলার জাল বিস্তৃত ছিল বলে অনুমান ইডির।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি, এই চক্রে কলকাতা পুলিশের অন্তত ১২ জন আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে। ফলে তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বারবার নোটিস উপেক্ষা করায় শান্তনুর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করার প্রস্তুতিও নিয়েছিল ইডি। এমনকি তাঁর খোঁজে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিকেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এরপরই বৃহস্পতিবার হাজিরা দেন তিনি।ইডির অভিযোগ, শান্তনু সিন্হা শুধু প্রভাব খাটিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, এই সিন্ডিকেট থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে।শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। এখন নজর আদালতে আর কী কী বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনে ইডি, সেটাই দেখার।

মে ১৪, ২০২৬
কলকাতা

সিঙ্গুর মামলায় বড় স্বস্তি রাজ্যের! টাটাদের ক্ষতিপূরণে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

সিঙ্গুর মামলায় বড় স্বস্তি পেল রাজ্য। টাটা মোটরসকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের বেঞ্চ আগামী আট সপ্তাহের জন্য এই স্থগিতাদেশ জারি করেছে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে।সিঙ্গুরে কারখানা তৈরি না করতে পারার কারণে টাটা মোটরসকে এই বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সালিশি আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই তৎকালীন তৃণমূল সরকার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল।জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়, পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে টাটা মোটরসকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা মেটানো পর্যন্ত বছরে ১১ শতাংশ হারে সুদ এবং মামলার খরচ বাবদ আরও ১ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরে টাটাদের জন্য অধিগৃহীত ৯৯৭ একর জমিকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের নির্দেশে কৃষকদের জমি ফেরানোর কাজ শুরু করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। যদিও বহু কৃষকের অভিযোগ ছিল, জমি ফেরত পেলেও তা চাষের উপযুক্ত অবস্থায় ছিল না।২০০৬ সালে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্পের জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু জমি আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে ২০০৮ সালে রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে কারখানা সরিয়ে গুজরাটের সানন্দে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার সিঙ্গুর জমি পুনর্বাসন ও উন্নয়ন আইন পাশ করে জমি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।সিঙ্গুর মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের রাজনৈতিক এবং শিল্প মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মে ০৭, ২০২৬
রাজ্য

পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি! শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠকে খুন ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

কাজের সূত্রে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। অভিযোগ, মাঝ রাস্তায় তাঁর গাড়ি আটকে খুব কাছ থেকে পরপর গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই খুন, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল?চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি সরাসরি তৃণমূল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। অর্জুনের দাবি, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হামলা এবং পেশাদার খুনিদের দিয়েই এই কাজ করানো হয়েছে। তাঁর কথায়, খুব কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় গাড়িতে তিনজন ছিলেন। একজন নিচু হয়ে যাওয়ায় বেঁচে যান, তবে চালক এবং চন্দ্রনাথ গুলিবিদ্ধ হন।অন্যদিকে বিজেপি মুখপাত্র শঙ্কুদেব পণ্ডাও দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, দিনের পর দিন নজরদারি চালিয়ে তারপর চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে। নির্বাচনে ফল খারাপ হওয়ার পরও শাসকদলের কোনও শিক্ষা হয়নি বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শঙ্কুদেব। তাঁর দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারীকে এভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।এদিকে একই রাতে বসিরহাটেও বিজেপি কর্মী রোহিত রায়কে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফলে এক রাতেই পরপর দুই বিজেপি কর্মীর উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।

মে ০৭, ২০২৬
রাজ্য

ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র! কড়া পদক্ষেপে নামল শিলিগুড়ি পুলিশ, একের পর এক গ্রেফতার

ভোট শেষ হতেই হিংসার আশঙ্কায় কড়া অবস্থান নিল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রশাসন এবার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় হিংসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কোনও রকম আপস করা হবে না। তিনি বলেন, হিংসার ঘটনার মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ টহলও বাড়ানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নেন। কোনও ধরনের প্ররোচনামূলক কাজ বা গুজব ছড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোশ্যাল মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ালেও রেয়াত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শহরের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড়া হবে না।

মে ০৬, ২০২৬
দেশ

আপে বড় ভাঙন! রাঘব চাড্ডা সহ সাত সাংসদের বিজেপিতে যোগ

সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আম আদমি পার্টি ছাড়লেন রাঘব চাড্ডা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে আরও ছয় জন সাংসদও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানি।দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে রাঘব এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যসভায় আপের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সংবিধানের নিয়ম মেনেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে আপের দশ জন সাংসদের মধ্যে সাত জনই এই সিদ্ধান্তে সই করেছেন।সম্প্রতি তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁকে সংসদে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব বলেন, তিনি দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে দলকে সময় দিয়েছেন। কিন্তু এখন দল তার আদর্শ থেকে সরে গিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, দল আর দেশের জন্য কাজ করছে না, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এতদিন তাঁর মনে হচ্ছিল তিনি সঠিক ব্যক্তি হলেও ভুল দলে রয়েছেন। তাই তিনি এখন মানুষের কাছে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে চান।এর আগে বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংসদে সরব হয়েছিলেন রাঘব। মূল্যবৃদ্ধি, সস্তায় খাবার, পরিষেবা সংক্রান্ত নানা দাবি তুলেছিলেন তিনি। সেই নিয়েই দলের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।এই দলবদল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

এপ্রিল ২৪, ২০২৬
রাজ্য

বাংলার ভোট দেখতে বিদেশিরা! শিলিগুড়িতে নজর কাড়ল গণতন্ত্রের উৎসব

রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটের উৎসব। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব বলা হয়। সেই উৎসব এবার দেখতে বিদেশ থেকেও প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছেছে বাংলায়। শিলিগুড়িতে এসে তাঁরা সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন।শিলিগুড়ি কলেজের নির্বাচন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন বিদেশি প্রতিনিধিরা। এই দলে নামিবিয়া, জর্জিয়া, নেপাল, ফিলিপিন্স, সুইজারল্যান্ড এবং কেনিয়াএই ছয়টি দেশের প্রতিনিধি রয়েছেন। সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরাও আছেন। সব মিলিয়ে মোট ১৩ জনের এই দল প্রথমেই প্রশাসনিক আধিকারিক এবং ভোটকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কীভাবে এত বড় পরিসরে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়, তা তাঁদের বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়।বিপুল সংখ্যক পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মী এবং সরকারি আধিকারিকদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখে বিদেশি প্রতিনিধিরা বিস্মিত হন। যদিও তাঁরা সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছু বলতে চাননি।এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানান, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বিশ্বজুড়ে পরিচিত তার উৎসবমুখর পরিবেশের জন্য। সেই অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখতেই বিদেশি প্রতিনিধিরা এসেছেন। তাঁরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন এবং কীভাবে প্রতিটি বুথে নজরদারি করা হচ্ছে, তা বুঝবেন। এছাড়া তাঁরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও দেখবেন।কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে বিদেশি প্রতিনিধিরা যথেষ্ট মুগ্ধ। এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বে ভারতের গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ইডির তলব এড়িয়ে গেলেন ডিসি! শান্তনুকে নিয়ে নতুন রহস্য

ইডির তলব থাকা সত্ত্বেও আজও দফতরে হাজির হলেন না কলকাতা পুলিশের ডিসি স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তাঁর আইনজীবী ইডি দফতরে গিয়ে জানান, আপাতত তিনি কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারছেন না। সেই কারণে তদন্তকারী সংস্থার কাছে কিছু সময় চাওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। শুধু তিনি নন, তাঁর দুই ছেলেকেও তলব করা হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বেআইনি জমি জালিয়াতি মামলার তদন্তেই তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। একই এলাকায় তাঁর নামে থাকা আরও কয়েকটি ফ্ল্যাটেও অভিযান চালানো হয়।সূত্রের খবর, এই মামলার সূত্রে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে ইডি। সেই সূত্র ধরেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।এই মামলায় ইতিমধ্যেই এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এর আগেও একাধিক মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর ছেলে সায়ন্তনের নামও এই মামলায় জড়িয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বারবার তলব সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়ায় তদন্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই নজর এখন।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগেই ফল ঘোষণা? আসনসংখ্যা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

সিউড়ির জনসভা থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এ বার তৃণমূল অন্তত ২২৬টির বেশি আসন পাবে। এর আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ২০২১ সালের থেকে অন্তত একটি আসন বেশি জিতবে তৃণমূল। তবে এ দিন প্রথমবার নিজেই নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছিল।সভা থেকে ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কোথাও ভোটযন্ত্রে সমস্যা হলে সেই যন্ত্রে ভোট না দিতে। গণনার সময় ধীরে ধীরে ফল প্রকাশ করা হতে পারে এবং আগে থেকেই কোনও পক্ষ জয়ের দাবি ছড়াতে পারে, সেইসব কথায় গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর একদিন ধৈর্য ধরলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসন পাবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে বাহিনী এনে বা নানা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাকে দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, হামলার জবাব মানুষই দেবে ভোটের মাধ্যমে।এ দিন তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও চ্যালেঞ্জ জানান। মমতা বলেন, বাংলায় তৃণমূল সরকার চাইলে তিনি নিজেকে সবকটি আসনের প্রার্থী হিসেবেই মনে করেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী যদি সব আসনের প্রার্থী হওয়ার কথা বলেন, তবে তাঁকে ঠিক করতে হবে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নাকি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানাতেও তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।এই মন্তব্য ঘিরে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
দেশ

ভোটের আগে বড় ধোঁয়াশা! বিচারাধীন ভোটাররা কি ভোট দিতে পারবেন? স্পষ্ট জানাল আদালত

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদের যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি জানান, মোট ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এখনও প্রায় ১৮২৩টি মামলা প্রযুক্তিগত কারণে মুলতুবি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।বিচারপতি বাগচী জানান, প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যাঁদের নাম ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, কিছু এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় থাকা সব ভোটারই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অথচ এমন ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন সব মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন এখনও বিচারাধীন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, এই প্রশ্ন ওঠেই না। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের উপর কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং তারা তাদের ভোটাধিকার চায়। এই সময় অন্য পক্ষের আইনজীবী জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। পাল্টা জবাবে কল্যাণ বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছে বা যাঁরা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করা হয়।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বাগচী জানান, বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য আদালতের কিছু সময় প্রয়োজন। দুই পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ, তবু শীর্ষে নয়! তালিকার শীর্ষে কোন রাজ্য জানলে চমকে উঠবেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে রাজ্যে ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং উদ্বেগের ছবি সামনে এসেছে। তবে অবাক করার বিষয়, নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় বাংলা শীর্ষে নেই।তথ্য বলছে, এই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে খসড়া তালিকাতেই প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বাংলায় মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৪ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।কেরলে প্রায় ৯ লক্ষ নাম বাদ গেছে। পুদুচেরিতে মোট ভোটারের তুলনায় প্রায় ১ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে অসমে এই প্রক্রিয়া হয়নি।বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে গুজরাটে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। শতাংশের হিসাবে গুজরাট বাংলাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।মধ্যপ্রদেশে প্রায় ৩৪ লক্ষ, রাজস্থানে প্রায় ৩১ লক্ষ এবং ছত্তিশগড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই সব রাজ্যেও শতাংশের হিসেবে নাম বাদ পড়ার হার বাংলার থেকে বেশি।তবে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে দেরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সময় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করছে বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই তথ্যকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
দেশ

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ! রাতেই প্রকাশ পাবে সম্পূরক তালিকা

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বিচারবিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই মতো জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারিতে কাজ চলছে। শুনানিতে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৯ লক্ষের বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, বাকি প্রায় ছাব্বিশ হাজার আবেদনও খুব শীঘ্রই মিটিয়ে ফেলা হবে এবং সোমবারের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।আদালতে জানানো হয়, বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও মালদহে প্রায় আট লক্ষ মানুষের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের স্বীকৃতি পত্র দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যেক আবেদনকারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নোডাল অফিসারের উপর থাকবে।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি চিঠি দেখানোর জন্য আদালতে মোবাইল ব্যবহার করেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। একইসঙ্গে অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো ও বিচারকদের পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইটে আবেদন জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি।আদালত জানায়, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত এবং কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি এবং সেই দিকেই নজর রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে ভোটাধিকার দেওয়া যাবে না।রাজ্যের তরফে আবেদন করা হয়, যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তাঁদের অন্তত ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে এবং যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁরা আপিল করতে পারেন।শুনানিতে রাজনৈতিক বিতর্কও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য আদালতে তুলে ধরা হয়। কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে পাল্টা একটি ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ট্রাইব্যুনাল দ্রুত সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নথি যাচাই করা হবে। প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছে এবং সমস্ত আবেদন ডিজিটাল স্বাক্ষর সহ প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র কলকাতায় নয়, জেলা স্তরেও আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের দফতর থেকেও আপিল জমা নেওয়া যাবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে রসিদ দিতে হবে।কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোর্টালে আপলোড করা হবে। একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নন্দলাল বসুর নাতির আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৯ তারিখের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৩ এপ্রিল।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
রাজ্য

কালিয়াচকের পর ফের উত্তপ্ত মালদহ! জাতীয় সড়ক অবরোধে তীব্র বিক্ষোভ

কালিয়াচকের ঘটনার পর মালদহে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। বুধবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন স্থানীয় মানুষ। জাতীয় সড়কের উপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু হয়। কয়েকটি জায়গায় বাঁশ ফেলে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে।এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।এর আগের দিন কালিয়াচকে একই ইস্যুতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সাতজন বিচারককে একটি সরকারি দফতরে আটকে রাখেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা বিচারকরাও ছিলেন। দীর্ঘ সময় ঘেরাওয়ের পর গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।এই ঘটনার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং নতুন করে মঙ্গলবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
কলকাতা

প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় নাম নেই! হাইকোর্টে চাঞ্চল্য, সুপ্রিম কোর্টে ছুটছেন কংগ্রেস প্রার্থী

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও তাঁর নাম নাকি এসআইআর তালিকায় নেই। এই বিষয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁর আইনজীবী।মামলাকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একজন প্রার্থী হয়েও যদি তাঁর নাম ভোটার যাচাইয়ের তালিকায় না থাকে, তা হলে তা গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি আরও জানানো হয়, এই সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেই আবেদন করা হয়।তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টেই হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, এই ধরনের মামলার শুনানি কোনও হাইকোর্ট করতে পারবে না। কলকাতা হাইকোর্ট শুধু প্রশাসনিক দিকটি দেখছে। তাই আবেদনকারীকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী পয়লা এপ্রিল মহতাব শেখ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাবেন।এই ঘটনার মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রার্থীও এখনও এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন রয়েছেন। কাজল শেখ এবং শশী পাঁজার নাম দ্বিতীয় তালিকায় উঠে এলেও এখনও আরও কয়েকজনের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই বিষয়টি বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভোটারকে আলাদা করে যাচাইয়ের জন্য রেখেছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার একাংশে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।এই নিয়ে জনসভা থেকেও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির প্রভাবে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বা জটিলতা তৈরি করছে।এদিকে সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে চলেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
কলকাতা

টিকিট না পেয়ে বিস্ফোরণ! তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত সুনীল সিংয়ের, নোয়াপাড়ায় বাড়ছে ক্ষোভ

প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক বিধায়ক টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সেই ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে আনলেন নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর তৃণমূলে থাকতে চান না তিনি।নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে বেছে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ সুনীল। তাঁর অভিযোগ, এলাকার বাইরে থেকে প্রার্থী এনে দলের ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নোয়াপাড়ার মানুষ এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। দলের কর্মীরাও ক্ষুব্ধ। তাঁর কথায়, এলাকায় অনেক যোগ্য নেতা থাকলেও তাঁদের কাউকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।একইসঙ্গে তিনি বলেন, চারবারের বিধায়ক মঞ্জু বসুকে প্রার্থী না করায় নোয়াপাড়ার মানুষ অপমানিত বোধ করছেন। এই সিদ্ধান্ত মানুষ মেনে নেবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজ্যে যেমন পরিবর্তন এসেছিল, তেমনই নোয়াপাড়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে।উল্লেখ্য, মঞ্জু বসুও আগে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, টাকা না দেওয়ার কারণেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি।সুনীল আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এলাকার বাইরে থেকে প্রার্থী আনা হল। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় অনেকেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কাউকেই বেছে নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, নোয়াপাড়ার মানুষ বাইরের প্রার্থীকে ভোট দিতে রাজি নন।এর আগেও সুনীল সিংয়ের দলবদল নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তিনি বিরোধী শিবিরের এক নেতার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় তাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়েও অনেক জল্পনা তৈরি হয়েছিল।এখন সুনীল সিংয়ের গলায় স্পষ্ট অভিমান। তিনি বলেন, দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিশ্বাস করা হয়নি। তাঁর মতে, যে দলে বিশ্বাস নেই, সেখানে থাকার কোনও মানে হয় না। তাই ভবিষ্যতে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ২৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 26
  • 27
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

সুরুচি সংঘের পুজো কি বন্ধ হতে চলেছে? এলআইসির জমি দখলের অভিযোগে নতুন বিস্ফোরণ

সুরুচি সংঘকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। এবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি অভিযোগ করেছে, তাদের ২১ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। ওই জমিতেই সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজো এবং ক্লাবের বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে শনিবার আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এলআইসির আধিকারিকরা।দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গাপুজো সুরুচি সংঘ। এই ক্লাবের সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নাম দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত। সম্প্রতি স্বরূপ বিশ্বাস তোলাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সুরুচি সংঘকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে।এলআইসির দাবি, বহু বছর ধরে তাদের মালিকানাধীন ২১ কাঠা জমি বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই জমি ঘিরে স্থায়ী নির্মাণও করা হয়েছে। জমি পুনরুদ্ধারের জন্য অতীতেও একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংস্থার কর্তারা। এমনকি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিল এলআইসি। তবে এতদিন জমি ফেরত পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ।এলআইসির আধিকারিকদের দাবি, বিতর্কিত জমির উপর নির্মিত ভবনে একাধিক বেডরুম-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সংস্থার অনুমতি ছাড়াই এই নির্মাণ করা হয়েছে। তাই জমির মালিকানা এবং নির্মাণের বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।এরই মধ্যে সুরুচি সংঘকে ঘিরে আরও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ক্লাব প্রাঙ্গণে বিপুল পরিমাণ সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। সেখানে সরকারি পানীয় জল প্রকল্পের বোতল এবং ত্রাণ বিতরণের জন্য রাখা শাড়িও উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ। এসব নিয়ে এলাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জেরে সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। এলআইসির অভিযোগ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে সকলের।

জুন ০৬, ২০২৬
কলকাতা

১৮ সাংসদ দল ছাড়তে পারেন! হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন অভিষেক, জোর জল্পনা

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বেড়েছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলে বড় ভাঙনের পর এবার সংসদীয় দল নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বেশ কয়েকজন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক। আগামী ৮ জুন বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর দিল্লি যাত্রা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী গড়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবেও নতুন নাম ঘোষণা হয়েছে। এবার লোকসভাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়েকজন সাংসদ একজোট হয়ে নতুন ব্লক গঠনের পরিকল্পনা করছেন। দলবদল বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টাও চলছে বলে খবর।এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, দলের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাঁকে রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।অন্যদিকে, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় আগামী ৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হলেও সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনেই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি সফরের নেপথ্যে কি শুধুই রাজনৈতিক কারণ, নাকি তদন্ত সংস্থার তলবও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত? এই নিয়ে জল্পনা ক্রমশই বাড়ছে। এখন নজর আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

জুন ০৬, ২০২৬
বিদেশ

ভারত-চিন সংঘাতে বড় বার্তা পুতিনের! ‘নাক গলাবে না রাশিয়া’, প্রকাশ্যে জানালেন কারণ

ভারত ও চিনের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত ও চিনের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে রাশিয়া কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তরিকভাবে আগ্রহী।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, ভারত-চিন সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক। তাই এই বিষয়ে বাইরের কোনও দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তবে রাশিয়া দুই দেশের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং সীমান্ত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। তবে গত কয়েক বছরে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার ফলেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।গত বছর চিনের তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। সেই বৈঠকে দুই নেতা জানিয়েছিলেন, ভারত ও চিন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার। মতপার্থক্য থাকলেও তা বিবাদের কারণ হওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা।পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিনকে অস্বস্তিতে ফেলে না। একইভাবে চিনের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও ভারতের কোনও উদ্বেগ নেই। তাঁর মতে, তিন দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগোচ্ছে।সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে চিন আড়াল থেকে সাহায্য করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, সে বিষয়ে পুতিন বলেন, পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে চিনের নিয়ন্ত্রণাধীন দেশ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে।তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের সামরিক শক্তির একটি বড় অংশ চিনের অস্ত্র ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ চিন থেকে আসে, ফলে ইসলামাবাদের কাছে বেজিংয়ের গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে।পুতিনের এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারত-চিন সম্পর্ক, পাকিস্তানের অবস্থান এবং এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুন ০৬, ২০২৬
বিদেশ

লন্ডনে প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে বিতর্ক! প্রশ্নবাণে থামাতে হল অনুষ্ঠান, কড়া বার্তা ভারতের

লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতপার্থক্য প্রকাশেরও একটি শালীন পদ্ধতি থাকা উচিত।গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ক আলোচনাসভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত কয়েকজন ভারতের গণতন্ত্র এবং ভিন্নমতের প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।সেখানে উপস্থিত এক মহিলা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখা হলেও দেশে ভিন্নমতের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগের কথা আন্তর্জাতিক মহলে শোনা যাচ্ছে। তিনি সেই প্রসঙ্গেই প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন।তবে ওই প্রশ্ন সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তাঁকে থামিয়ে দেন। সঞ্চালক জানান, আলোচনার বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন। তাই বিষয়বহির্ভূত প্রশ্ন গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।ঘটনার ভিডিও পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তা নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা। এরপর লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি। দূতাবাসের মতে, এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, বিদেশের মাটিতে ভারতকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারের চেষ্টা চলছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

জুন ০৬, ২০২৬
রাজ্য

খাদ্যসাথীতে বড় ঝাঁকুনি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতেই বন্ধ হতে পারে রেশন, চিহ্নিত ৬৩ লক্ষ উপভোক্তা

খাদ্যসাথী প্রকল্পে অযোগ্য এবং তথাকথিত ভূতুড়ে উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে বড়সড় অভিযান শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সরকারি অর্থের অপচয় রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। চলতি বছরের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার তথ্যের ভিত্তিতেই এই যাচাই অভিযান চালানো হবে।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। যাচাইয়ের পর অযোগ্য উপভোক্তাদের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে যাঁরা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন করেছেন বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত রেশন পরিষেবা চালু থাকবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা খাদ্যসাথীর সুবিধা পাবেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমা শাসক এবং বিডিওদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণ, বর্তমান অবস্থা এবং প্রকৃত যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। যাচাই শেষ হওয়ার পর যাঁরা প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত নন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই কাজ শেষ করা।বর্তমানে রাজ্যের প্রায় দুই কোটি মানুষ খাদ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে রেশন পান। এই প্রকল্প চালাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য বিতরণ পর্যন্ত গোটা ব্যবস্থার জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। তাই প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে এবং অপব্যবহার রুখতে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে।প্রশাসনের একাংশের মতে, অতীতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অনিয়ম এবং অযোগ্য উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই এবার সমস্ত রেশন কার্ডের তথ্য নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, এই উদ্যোগ সফল হলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই সরকারি সাহায্য পাবেন।একই সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পেও উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলিতে আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি পুরনো তালিকাও পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

জুন ০৬, ২০২৬
কলকাতা

সিএএ আন্দোলনের আগুন এবার ফিরল ফাইলে! পুরনো মামলা খুলে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় রেলের সম্পত্তি নষ্ট, ট্রেনে আগুন লাগানো এবং পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগে এবার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরনো মামলার ফাইল খুলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে বিশেষ সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের রাজ্য সফরের দিনই এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রেলের সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খোলার বিষয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তদন্তে গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও সেই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকটি কামরায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে যায় রেলের বহু সম্পত্তি। এর জেরে বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করতে হয়েছিল। অনেক ট্রেন ঘুরপথে চালাতে বাধ্য হয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল ভারতীয় রেল।নবান্নে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রীকে ভবানীপুরে রেল সুরক্ষা বাহিনীর একটি বিশেষ দপ্তর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। সেখানে বসেই পুরনো নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।সূত্রের খবর, শুধু অভিযুক্তদের চিহ্নিত করাই নয়, রেলের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাঁদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।রেল আইনে রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা, ভাঙচুর চালানো বা পরিষেবা ব্যাহত করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই বহু বছর পর এই মামলাগুলির তদন্ত ফের শুরু হওয়ার খবরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

জুন ০৬, ২০২৬
দেশ

হোটেলে আগুন, তদন্তে বিস্ফোরক মোড়! বাংলাদেশিদের জাল আধার-পাসপোর্ট বানানোর অভিযোগ মালিকের বিরুদ্ধে

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক গাফিলতির অভিযোগের মধ্যেই এবার উঠে এসেছে জাল পরিচয়পত্র চক্রের অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জাল নথি তৈরিতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার পর দিল্লির সমস্ত হোটেল, রেস্তরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং সিনেমা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।পুলিশ সূত্রে খবর, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজের ছত্তরপুরের আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিতেন লাভকেশ বাজাজ। অভিযোগ, সেই ঠিকানা ব্যবহার করে আধার কার্ড, পাসপোর্ট-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হত। অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন এই পুরনো মামলার তথ্যও ফের সামনে এসেছে।জানা গিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় জাল নথি ব্যবহার করে এক বাংলাদেশি পরিবারের থাকার খবর পায় পুলিশ। তদন্তে একটি বাড়ি থেকে এক মহিলা এবং তাঁর নাতিকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একাধিক পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন পরিচয়পত্রে আলাদা নাম ও ঠিকানা থাকলেও ছবিটি ছিল একই ব্যক্তির।পুলিশের দাবি, ওই জাল নথিগুলির মধ্যে থাকা একটি ঠিকানা দক্ষিণ দিল্লির ছত্তরপুর এলাকার। তদন্তে সেই ঠিকানার সূত্র ধরেই লাভকেশ বাজাজের নাম উঠে আসে। পরে জেরায় তিনি নাকি স্বীকার করেন যে, অর্থের বিনিময়ে নিজের ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন।এর আগে জালিয়াতি চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিছুদিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এবার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।দিল্লি পুলিশের তদন্ত এখন দুই দিকেই এগোচ্ছে। একদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে জাল পরিচয়পত্র চক্রের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্ভাব্য যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুন ০৬, ২০২৬
রাজ্য

শওকত-পুত্রের বিলাসবহুল ক্যাফেতে প্রশাসনের নোটিস! এবার কি ভাঙার মুখে কোটি টাকার নির্মাণ?

ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে মাতলা নদীর চর দখল করে বিলাসবহুল ক্যাফে তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের জেরে এবার সরাসরি পদক্ষেপ করল প্রশাসন। ক্যাফের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে আগামী ১৮ জুন মহকুমাশাসকের দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইমরান মোল্লাকে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে ক্যাফেটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে।ইমরান মোল্লার এই ক্যাফের নাম অরণ্যের কূলে। অভিযোগ, মাতলা নদীর চর দখল করে এবং মৌখালি সেতুর কাছাকাছি এলাকায় ম্যানগ্রোভ গাছ কেটে প্রায় ১০ একর জমির উপর এই ক্যাফে গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে এই বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই ক্যাফে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কয়েক দিন আগে তদন্তকারী সংস্থা শওকত মোল্লাকে খুঁজতে গিয়ে তাঁর ছেলে ইমরানকে নিয়ে এই ক্যাফেতেও পৌঁছেছিল। এরপরই প্রশাসনের নজরে আসে গোটা বিষয়টি।জানা গিয়েছে, জীবনতলা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা ক্যাফেতে গিয়ে নোটিস টাঙিয়ে এসেছেন। মহকুমাশাসক প্রণব মালিয়ে আগামী ১৮ জুন ইমরান মোল্লাকে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু এই ক্যাফে নয়, মাতলা নদীর চর ভরাট করে গড়ে ওঠা আরও কয়েকটি নির্মাণ এবং ক্যাফেকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।এদিকে ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লা বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রয়েছেন। সেই আবহেই তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার একাধিক ফিশারি এবং জলাভূমি দখল করে তা কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। পরে সেখানে গড়ে উঠেছে ক্যাফে, বাণিজ্যিক নির্মাণ এবং অন্যান্য স্থাপনা। এমনকি একটি বেসরকারি নার্সিংহোম তৈরির জন্যও বিপুল পরিমাণ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

জুন ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal